- ছবি: আরমান খান ছামির, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
মেধা, সৃজনশীলতা ও দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের অন্যতম বৃহৎ তরুণ নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘জিরো অলিম্পিয়াড সিজন-২’-এ সাফল্যের নতুন ইতিহাস গড়েছেন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী টি. এম. তাওহীদ ইসলাম। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) ভিত্তিক এই জাতীয় প্রতিযোগিতায় তিনি এসডিজি-১৪ (Life Below Water) ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
প্রতিযোগিতার শুরুতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৯ হাজার ৩৩২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হন ৩ হাজার ৪০৭ জন। পরবর্তীতে ভিডিও প্রেজেন্টেশন, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা, উপস্থাপনা, টেকনিক্যাল কোয়ালিটি, সমস্যা বিশ্লেষণ ও সমাধান প্রস্তাবসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশের সেরা ৫১ জন ফাইনালিস্ট নির্বাচিত হন।
এই ৫১ জনের মধ্যে পলিটেকনিক অঙ্গন থেকে জায়গা করে নেন মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী। তারা হলেন রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অভিজিৎ সাহা এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল টেকনোলজির ৫ম পর্বের শিক্ষার্থী টি. এম. তাওহীদ ইসলাম।
গ্র্যান্ড ফিনালে জাতিসংঘের ১৭টি এসডিজি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে তিনজন করে মোট ৫১ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সেখানে জলজ প্রাণী ও সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক এসডিজি-১৪ (Life Below Water) ক্যাটাগরিতে অসাধারণ উপস্থাপনা ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তাওহীদ।
প্রতিযোগিতার আয়োজকরা জানান, তরুণদের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবনের লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পলিটেকনিকের একজন শিক্ষার্থীর এমন অর্জন কারিগরি শিক্ষার সক্ষমতাকেই নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন মেক্সিকো থেকে আগত Clarios-এর পরিচালক Ana Margarita Garza Villarreal। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা মুশফিকুর রহিম, জনপ্রিয় উপস্থাপক আর জে কিবরিয়া, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
তাওহীদের এই অর্জনে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কারিগরি শিক্ষাঙ্গনে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। সহপাঠীরা মনে করছেন, তার এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক কারিগরি শিক্ষার্থীকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করবে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, তাওহীদের এই সাফল্য কারিগরি শিক্ষার সম্ভাবনা ও সক্ষমতাকে দেশের সামনে আরও শক্তভাবে তুলে ধরবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।



