- নিজস্ব প্রতিবেদক, মধুপুর (টাঙ্গাইল):
স্বার্থের এই সময়ে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করা মানুষ খুব বেশি দেখা যায় না। তবে সেই ব্যতিক্রমী মানুষের কাতারেই রয়েছেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের তরুণ সমাজসেবক হাবিব নিশো। মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন স্থানীয় মানুষের আস্থা, ভরসা ও ভালোবাসার প্রতীক।

জীবনের শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা তার। বাবাকে হারানোর পর আর্থিক সংকট ও কষ্টের মধ্যেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে সংগ্রামের জীবন কাটালেও কখনো মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থেকে পিছিয়ে যাননি। নিজের কষ্টকে আড়াল করে সমাজের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টাই যেন হয়ে উঠেছে তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।
অনেকেই কর্মসংস্থানের জন্য এলাকা ছেড়ে শহরমুখী হলেও হাবিব নিশো নিজ এলাকায় থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। চাকরির পেছনে ছুটে না গিয়ে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। স্থানীয়দের মতে, নিজের ভবিষ্যতের চেয়ে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের যেকোনো সমস্যা, দুর্যোগ কিংবা সামাজিক উদ্যোগে তাকে সবার আগে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাবিব নিশো শুধু পরামর্শ দেন না, বরং নিজেই মাঠে নেমে কাজ করেন। এলাকার রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার রাখা, রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় ও আগাছা অপসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা ছেঁটে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সাইনবোর্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মতো কাজগুলো তিনি নিয়মিত করে থাকেন। তার এসব উদ্যোগে এলাকার পরিবেশ যেমন সুন্দর হচ্ছে, তেমনি সামাজিক সচেতনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে যখন অনেক তরুণ মোবাইল আসক্তি, মাদক কিংবা বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, তখন হাবিব নিশো যুবসমাজকে মানবিক ও সামাজিক কাজে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তার বিশ্বাস, একটি সুন্দর সমাজ গড়তে হলে তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
মানবসেবার বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হাবিব নিশো বলেন, “মানুষের উপকার করতে পারলে আমি আত্মতৃপ্তি অনুভব করি। আমার সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। অতীতেও মানুষের সেবায় কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করে যেতে চাই। মহান আল্লাহ যেন আমাকে সারাজীবন মানবকল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করেন—এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।”
তার কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক তরুণও এখন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে এগিয়ে আসছেন। সচেতন মহলের অভিমত, হাবিব নিশোর মতো মানবিক ও দায়িত্বশীল তরুণরাই একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের প্রতিটি এলাকায় এমন মানবিক মানুষ তৈরি হোক, যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে। কারণ হাবিব নিশোর মতো মানুষরাই মানবতার প্রকৃত দূত এবং সমাজ পরিবর্তনের নীরব কারিগর।
মানবতার সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া হাবিব নিশো আজ শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি আউশনারা ইউনিয়নের মানুষের কাছে একটি বিশ্বাস, একটি অনুপ্রেরণা এবং মানবিকতার উজ্জ্বল প্রতীক। তার মতো তরুণদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে সমাজ, এগিয়ে যাবে দেশ।